Saturday, February 9, 2019

অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি শিশু

অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি শিশু

অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি শিশু
অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন ৫টি শিশু

আমরা সবাই কল্পনাপ্রবণ। আমরা নানা বিষয় নিয়ে কম বেশি সবাই কল্পনা করতে পছন্দ করি। কিন্তু ছোটদের মধ্যে এই কল্পনা আরও অনেক বেশি কাজ করে। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন আমরা অদ্ভুত সব ক্ষমতার অধুকারী হতে চাইতাম। এই আশ্চর্যজনক ইচ্ছার কারন হচ্ছে বিভিন্ন রহস্যজনক মুভি। যেখানে ম্যাজিক্যাল পাওয়ারের প্রভাব দেখানো হয়েছে। আমরা এটাকে শুধু কল্পনাই ভাবতাম। কিন্তু কখনও ভাবতেই পারি নি যে এমন সব অদ্ভুত ক্ষমতাও থাকতে পারে কারও কারও। কি বন্ধুরা বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে? কোনো ব্যপার না একটু পরেই বুঝতে পারবেন এটাও অসম্ভব কিছু না। পৃথিবীতে এমনও অনেক শিশু রয়েছে যারা সব শিশুদের থেকে আলাদা। মনে হয় তারা যেন এক ভিন্ন জগৎ থেকে এসেছে। আজ আপনাদের এমনই অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী সব শিশুদের নিয়ে বলব যা শোনার পর আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে। চলুন আর বেশি লেট না করে শুরু করা যাক-

 

১.Hasna Mohammed

Hasna Mohammed USA এর Lebanon এ বসবাস করে। একবার স্কুলে থাকাকালিন তার চোখে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করে। তখন তার বয়স ছিল ১২বছর। ব্যথায় সে কাদতে থাকে। আর তখনই ঘটলো এক অসম্ভব ঘটনা যা শুনে আপনার বিশ্বাস হবে না।  তা হলো তার কান্নার সাথে সাথে তার চোখ দিয়ে  Crystal এর টুকরো বের হলো। কি? বলেছিলাম তো বিশ্বাস হবে না। অবিশ্বাস্যকর, অদ্ভুত লাগলেও এটাই সত্যি। যাই হোক তার চোখ দিয়ে বের হওয়া Crystal এর ব্যপারে তার বাবা মা কে জানায়। তার বাবা তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে। কিন্তু চিকিৎসক রাও কেউ এই অদ্ভুত ঘটনার কিনারা করতে পারে নি। এই ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পরার পর অনেক নিউজ রিপোর্টরা তার ইন্টারভিউ নেয় এবং তার চোখ থেকে Crystal বের হওয়ার দৃশ্য ভিডিও করেন। সৌদি আরবের এক বিজ্ঞানী এই Crystal পরীক্ষা করে জানান এইগুলাই কোনো কাচের টুকরো নয়। আসল Crystal এইগুলা। সবাই এই Crystal সংগ্রহ করে এবং তা থেকে নেকলেস রিং তৈরি করে। তার সাথে হওয়া এই অদ্ভুত ঘটনার ব্যখ্যা কেউ দিতে পারে নি।

 

২.কটিলা পন্ডিত

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে এই শিশুর জন্ম। এই শিশুটি Google boy নামেও অনেকের কাছে পরিচিত। প্রথম অবস্থায় সে সাধারন শিশুদের মতোই ছিল। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে সে হয়ে উঠে এক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এবং আস্তে আস্তে তার ক্ষমতা সবার নজরে পড়তে থাকে। ছয় বছর বয়সী এই শিশুটি এমন সব বলতো যা কিনা উচ্চশিক্ষীত হয়েও জানা সম্ভব নয়। এই বয়সে বাচ্চারা সাধারন ভাবে ABCD লিখা শিখে। এই শিশুর এই অদ্ভুত ক্ষমতা দেখে তার ইন্টারভিউ নেয়। তাতে সে বলে সে একবার যা দেখে এবং পড়ে তা সে কখনই ভুলে যায় না। আসলে সে Goggle এর চেয়ে কোনো অংশে কম বলে মনে হবে না। তাই তাকে Google boy নামে ডাকলেও ভুল হবে না। এই অদ্ভুত ক্ষমতা দেখে কখনও কখনও মনে হয় কোনো এক অদ্ভুত ডিভাইস তার ব্রেনে লাগিয়ে দেওয়া আছে অন্য সব সাধারন শিশুদের নেয়। তার এই ক্ষমতার খবর KBC পর্যন্তও চলে যায় এবং তাকে সেখানে KB খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে করে সে বিশ্বের সবার কাছে পরিচিত হয়ে যায়। তার বড় হওয়ার সাথে সাথে তার ক্ষমতা আরও বাড়তে থাকে। সত্যিই এটা আশ্চর্যজনক।

 

৩.নং ইউ হুই

এই শিশুটি এক অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী। যা শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। কারন তার যে ক্ষমতাটা রয়েছে তা কেবল পশুদের এবং ডিজিটাল ক্যামেরারই রয়ে থাকে । এই শিশুটির রয়েছে নীল চোখ। যা দিয়ে সে অন্ধকারেও পরিষ্কার দেখতে পায়। যেটা কিনা সাধারন মানুষের পক্ষেও সম্ভব নয়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এই শিশুটির চোখে যদি লাইট ধরা হয় তাহলে তার চোখ নীল রং ধারন করে। যে বৈশিষ্ট্য কিনা শুধুমাত্র পশুদের মধ্যেই দেখা যায়। নাইট ভিশন তখনই সম্ভব হয় যখন কারো চোখে Capitum, Lucitum নামে সেল থাকে। এর কারনে রাতের অন্ধকারেও চোখেও লাইট জ্বলে। আর অন্ধকারেও দেখে। কিন্তু অবাক করাত মতো হল ওর চোখে এসব কিছুই নেই। তাকে একবার পরীক্ষা করার জন্য অন্ধকার রুমে রেখে দেওয়া হয় এবং সে রুমে কি কি আছে তা তার কাছে জানতে চাওয়া হয়। সে সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়।

 

৪.ইয়োগামাতা

যে কিনা অসম্ভব অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী। আচ্ছা আপনাদের কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় আপনার চোখ অবশ্যাই উত্তর দিবেন পাগল নাকি মানুষের চোখ আবার কয়টা থাকে। না বন্ধুরা আমি জানি মানুষের চোখ দুটো। তবে এবার যদি প্রশ্ন করা হয় আপনার দু চোখ যদি বেধে দেওয়া হয় তাতে কি আপনি কিছু দেখতে পাবেন? তাহলে কি উত্তর দিবেন। আসলে আমাদের দুচোখ বন্ধ করে দিলে আমরা কিছুই দেখতে পাব না। কিন্তু ইয়োগামাতা এমন একটি শিশু যার কিনা দুটো চোখ বেধে দিলেও সে সবটা দেখতে পায়। তাকে বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে প্রমাণ হয় সত্যিই তার এক Mysterious ক্ষমতা রয়েছে। সে তার ব্যপারে খোজ নিয়ে জানা যায় যে সে এমন এক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা নেয় যেখানে এমনই অদ্ভুত এবং ব্যতিক্রম কিছু শিক্ষা দেওয়া হয়। সে জানায় তার এই অদ্ভুত ক্ষমতা সে তার মেডিটেশনের জন্য অর্জন করেছে। সত্যিই‌ ভাববার বিষয়।

 

৫.নন্দনা উনি কৃষাণ

আচ্ছা আপনাকে প্রশ্ন করা হয় আপনি আপনার সবচেয়ে কাছের এবং প্রিয় মানুষটির মাইন্ড রিডিং করে করে বলতে পারবেন তার মনে কি চলছে? কি পারবেন না তো? সত্যি বলতে এটা অসম্ভব। তবে নন্দনা নামের এই শিশুটির দ্বারা এটাও সম্ভব হয়েছে। যে কিনা কারও মাইন্ড রিডিং করে সহজেও বলে দিতে পারে তার মনে কি চলছে। তার এই অদ্ভুত ক্ষমতার প্রধান সাক্ষ্যি হচ্ছে তার মা। তার নাম সন্ধ্যা। এই বাচ্চাটিকে প্রথম অবস্থায় তেমন কেউ চিনতো না। তবে তার এই ক্ষমতার বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়ায় সে অতি সহজেই জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তার মা জানায় যে তারা প্রথমে এ ব্যপারে তেমন কিছুই বুঝতে পারে নি। তবে যখন তার মা তার জন্য কিছু রান্না করতে চায়তো। তখনই সে জেনে যেত। আর অদ্ভুত ভাবে রিয়্যাক্ট করত। তার মা আরও জানায় যে তারা তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে চায়লেও সে সেই ব্যাপরে জেনে যেত। একবার তার মা রিপোর্টারকে সামনে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল রিপোর্টারের নাম কি। তখন সে অদ্ভুত ভাবে তার নামও বলে দেয়। কারন তার নিজে মনে মনে সেই রিপোর্টারের নাম টা ভাবছিল। তবে এটা ছিল তার প্রথম পরীক্ষা। এরপর রিপোর্টার তার মাকে একটা কাগজে কিছু সংখ্যা লিখে দেয় এবং নন্দনাকে দেওয়া হয় একটা কম্পিউটার।তার মাকে বলা হয় সেই নাম্বারগুলা মনে মনে বলতে এবং নন্দনাকে তা কম্পিউটারে টাইপ করতে বলা হয়। সে ঠিক তার মা যেসব নাম্বার বলতে শুরু করে তা সে কম্পিউটারে টাইপ করতে থাকে। এতাই প্রমাণ হয়ে যায় যে তার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে। যার নাম টেলিপ্যাথি। যার সাহায্যে খুব সহজেই কারও মাইন্ড রিডিং করে জানা যায় সে কি ভাবছে। সত্যিই এক অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী এই মেয়েটি যা কিনা অসম্ভবপর বটে।
Previous Post
Next Post

0 comments: