রহস্য ভরা এই পৃথিবীতে রহস্যের যেন কমতি নেই। যা চোখে পড়ে সবই যেন রহস্যতে ভরপুর। এর কিছুটা প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি। আবার কিছুটা মানুষের সৃষ্টি। বন্ধুরা আমরা সবাই মঙ্গল গ্রহের কথা শুনেছি। মঙ্গল গ্রহ অসাধারন একটি গ্রহ। কিন্তু এটি পৃথিবীর মতো দেখতে এতোটাও সুন্দর নয়। তবুও মানুষ একটা আজব ইচ্ছা পোষণ করেছে। তাদের ইচ্ছা তারা মঙ্গল গ্রহে বাস শুরু করবে। তবে এ জন্য মঙ্গল গ্রহকে সর্বপ্রথম বাস উপযোগি করে তুলতে হবে। কিন্তু এই কাজটা করতে লেগে যাবে অনেক বছর। আর ততোদিন হয়তো আমরা অনেকে বেচেও থাকবো না। আবার মঙ্গল গ্রহ বাসের উপযোগি হলেও পৃথিবীর সব মানুষ তো আর সেখানে যেতে পারবে না। আর মঙ্গল গ্রহ দেখার ইচ্ছাটাও ইচ্ছেই রয়ে যাবে। তাই আপনাদের ইচ্ছাকে পূরণ করতে আজ আপনাদের কাছে এমন কিছু স্থান নিয়ে আলোচনা করব যা দেখতে মঙ্গল গ্রহের মতোই। এতে করে পৃথিবীতে থেকেও আপনাদের মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কেও জানা হয়ে যাবে। তাহলে আর দেড়ি না করে শুরু করা যাক -
পৃথিবীর এমন পাঁচটি স্থান যাদের মঙ্গলগ্রহের সাথে তুলনা করা হয়
Atacama Desert
এই স্থানটি দেখতে মঙ্গল গ্রহে থাকা স্থানটির মতো। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে শুকনো জায়গা গুলোর মধ্যে একটি। এর অবস্থান সাউথ অ্যামেরিকার চিলিতে অবস্থিত। এটি ৯০৬৬ কিমি জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এটি মঙ্গল গ্রহের মতোই শুকনো একটি জায়গা। ২০০৪ সালে নাসার বিজ্ঞানী এই জায়গাটির নানা ধরনের রিসার্চ করে। মঙ্গল গ্রহে মানুষ কিভাবে বাস করবে তা এই জায়গা থেকেই রিসার্চ করে বের করেন। মঙ্গল গ্রহে এক ধরনের কিউরিয়াসিটি রোভার পাঠানো হয়েছে তা কিভাবে মঙ্গল গ্রহে চলাফেরা করবে সেটার পরিক্ষা নিরিক্ষা এই স্থান থেকেই করা হয়েছে। এই জায়গাটি মঙ্গল গ্রহের মতো হওয়ার প্রধান কারন এর মাটি অদ্ভুত রকমের লাল এবং এই স্থানে একদমই বৃষ্টি হয় না। এই জায়গায় গেলে মনে হবে আপনি যেন মঙ্গল গ্রহে ভ্রমন করতে চলে এসেছেন। তাই মঙ্গল গ্রহ ভ্রমন করতে এই স্থানটিতে গিয়ে ঘুরে আসুন। সব থেকে অবাক করার মতো কথা হলো এই স্থানটিতে আজ পর্যন্ত একদিনও বৃষ্টি হয় নি। তবে ২০১১ সালে এই স্থানে হওয়া ৮০ সেন্টিমিটারের তুষারপাত সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল।
Death Valley California
আমরা আগেই জেনেছি নাসার কিউরিয়াসিটি মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হয়েছিল জায়গাটি পর্যবেক্ষন করতে। কিন্তু নাসার পাঠানোর আগেই এই রোভারটি এই জায়গার টেস্ট করা হয়। এই জায়গাটি ভয়ংকর উচু নিচু এবং বালিতে পরিপূর্ণ। আর মঙ্গল গ্রহের জায়গাটিও ছিল এমনই উচু নিচু আর বালির। তাই বিজ্ঞানীরা রোভার দিয়ে এই জায়গা পরিক্ষা নিরিক্ষা করে দেখে মঙ্গল গ্রহের ভয়ংকর জায়গায় কিভাবে তাদের পাঠানো রোভারটি চলাফেরা করবে। বিজ্ঞানীরা অনেক নিখুত ভাবে এই জায়গাটির রিসার্চ করে। আর তা থেকে তারা পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কেও ভালোভাবে জানতে পারে। তাদের পাঠানো রোভারটি নাসার ২.৫ বিলিয়ন ডলারের মার্চ সাইন্সল্যাব মিশনেরই একটি অংশ। আর এটি নাসাতে লঞ্চ করেছিল ২৬ নভেম্বর ২০১১সালে। এটি এখনও পর্যন্ত মঙ্গল গ্রহের হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ডেথ ভ্যালি নামক এই স্থানটি মঙ্গল গ্রহের মতো কিছুটা দেখতে হলেও। পুরোপুরি মঙ্গল গ্রহের ডুপলিকেট নয়। এর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৫৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর মঙ্গল গ্রহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা -৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো ডেথ ভ্যালিতে কয়েক শতক পুরোনা জীবের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তা থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে এখানে পূর্বে জীবের বাসস্থান ছিল।
Lake Vostok Antarctica
আন্টার্টিকায় একটি ঝিল রয়েছে যার নাম বস্টক। এই ঝিলের উপরের অংশে ৩.৫ কোটি থেকে ১.৫ কোটি বছরের পুরোনো বরফ জমা রয়েছে। এর সব থেকে অবাক করা ব্যাপার হলো এই বরফের নিচের পানি কেউ স্পর্শ করতে পারে নি। আর বন্ধুরা আপনারা তো জানেনই যেই কাজ গুলা অসম্ভব সেই কাজ গুলাই করতে মানুষ বেশি পছন্দ করে। আর তাই ২০১২ সালে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা ওই বরফ ড্রিল করে। তা থেকে তা যা দেখে তা দেখার জন্য তারা মোটেও প্রস্তুত ছিল না। কেননা বরফটি ছিল ৩কিলোমিটার পুরু অর্থাৎ মোটা। তারা ৩ কিলোমিটার বরফ পেরিয়ে অবশেষে সেই পানির নাগাল পায়। অবাক করার কতো ঘটনা হলো সেই পানির তাপমাত্রা ছিল মাত্র -৬০ ডিগ্রী সেলসিয়েয়াস। যা ছিল মঙ্গল গ্রহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা। ঠিক এই কারনে এই স্থান টিকে মঙ্গল গ্রহের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এরপর বিজ্ঞানীরা এটা জানার চেষ্টা করে যে সেই পানিতে কোনো জীব আছে কিনা। অর্থাৎ এমন কোনো জীবও কি আছে যারা কিনা -৬০ ডিগ্রী সেলসিয়েয়াস তাপমাত্রায়ও জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। যার সাহায্যে তারা এটা বুঝতে পারবে মঙ্গল গ্রহে জীব আছে কি নেই। এমনটাও হতে পারে Cold Living Creature -৬০ ডিগ্রী সেলসিয়েয়াস তাপমাত্রার পানিতেও বেচে আছে।
Alistair Island Canada
পৃথিবীর উত্তরাংশে অবস্থিত একটি দেশ কানাডা। আর এখানে যে স্থানটি রয়েছে তা মঙ্গল গ্রহের সাথে মিলে যায়। স্থানটির নাম Alistair Island এই স্থানে মাত্র ১৪১ জন লোকের বাস। এটি কানাডাল তৃতীয় বহত্তম আইল্যান্ড। এই জায়গায় বিজ্ঞানীরা ড্রিলিং প্র্যাক্টিস করে মাটির নিচের পানি বের করার চেষ্টা করছে। যাতে করে তারা মঙ্গল গ্রহে গিয়ে এভাবে ড্রিলিং করে পানির খোজ করতে পারে। ২০০৬ সালে নাসার বিজ্ঞানীরা এই স্থানে মাত্র দুই সপ্তাহ কাটিয়েছিল এবং সেখানে তারা ড্রিল মেশিন চালিয়ে পানির খোজ করতে থাকে। কিন্তু তাদের ড্রিল মেশিন চালানোর জন্য যতটুকু বিদ্যুৎ দিয়েছিল তা দিয়ে মাত্র একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালানো গিয়েছিল। অবাক করার মতো হলো এতো কম বিদ্যুৎ দিয়েও তারা সেই স্থানে ছয় ফুটের মতো গর্ত করে ফেলেছিল। তারা এই স্থান থেকেই কম বিদ্যুতে ড্রিল করা শিখে নিয়েছিল। কারন মঙ্গল গ্রহে যাওয়া বিজ্ঞানীদের কাছে ড্রিল করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমান বিদ্যুৎ থাকবে না।
Pico De ORIZABA Mexico
এই স্থানটি আপনাকে বুঝিয়ে দিবে মঙ্গল গ্রহ আপনার জন্য অতোটা নিরাপদ স্থানও নয়। কারন এই স্থানটিতে ১৮৬১৯ ফিট উচু আগ্নেয়গিরি ১৮৪০ সালে বিস্ফোরিত হয়। আগ্নেয়গিরির ৪০০০মিটার উচুতে প্রচুর গাছপালা ছিল। এটা এতোটাই উচু ছিল যে সেখনে জীবনের কল্পনা করা একেবারেই অসম্ভব। বিজ্ঞানীরা এটাই বের করার চেষ্টা করে যে এতো উচুতে জীবের বেচে থাকা কি করে সম্ভব। তাই তারা তাদের রিসার্চ দ্বারা এমন কিছু পদ্ধতির খোজ করছে যা দ্বারা মঙ্গল গ্রহেও এইভাবে জীব বেচে থাকতে পারে।
0 comments: