Thursday, January 31, 2019

বিশ্বের ভয়ংকর ৫টি নদী ও লেক ( 5 Most Dangerous Rivers And Lakes)

বিশ্বের ভয়ংকর ৫টি নদী ও লেক( 5 Most Dangerous Rivers And Lakes):

নদীর অপরূপ রূপে আমরা সকলেই মুগ্ধ হয়ে যাই। আঁকা বাঁকা চলনে সে সবার মন কেড়ে নেয়।  তাইতো কবি বলেছেন ,

"নির্জন টলমল জলভরা একটি নদী
বয়ে চলে নিরবধি ।
নদীর উপর নীল আকাশের ছায়া
তাইতো আকাশের প্রতি নদীর এতো মায়া ।"  (ক্রেডিট - banglarkobita.com)

এ নদী যেমন সুন্দর তেমনি কখনও কখনও মৃত্যুর কারণ হতে পারে এই নদী।  যাকে বলে ভয়ানক সুন্দর। কি! বিশ্বাস হচ্ছে না?? ভাবছেন মিথ্যা বলছি। মোটেও মিথ্যা না। পৃথিবীতে এমনও অনেক নদী আছে যার এক একটা হচ্ছে মৃত্যুর ফাঁদ। আজ আপনাদের সাথে এমন ৫টি নদী ও লেকের কথা বলব যা সম্পর্কে জানলে আপনার গা শিউরে উঠবে। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক সেই মৃত্যুর ফাঁদ সম্পর্কে-

5 Most Dangerous Rivers And Lakes
বিশ্বের ভয়ংকর ৫টি নদী ও লেক

অ্যামাজন নদী

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেনফরেস্ট অ্যামাজন জঙ্গল,এই আমাজন নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অ্যামাজন জঙ্গল। দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন নদী ও অরণ্যে আজও নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে অনেক রহস্য। এই নদী বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পানি ধারন করে শুধু তাই নয়, এই নদীতে বাসকরে পৃথিবীর বিভিন্ন ভয়ঙ্কর ও বিষাক্ত প্রাণী। এদের অনেকে এতটাই বিষাক্ত যে তাদের একটি মাত্র দংশনে আপনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই মহামূল্যবাণ প্রাণ হারাতে পারেন। এই নদীতে বাস করে ভয়ঙ্কর কুমীর, প্রকাণ্ড অ্যানাকোন্ডা, মাংসাশী পিরানহা এবং বিষাক্ত এক প্রকারের পরজীবী প্রাণী ক্যান্ডারো আর এদের জন্যই অ্যামাজন নদী হয়ে উঠেছে বিশ্বের ভয়ঙ্কর নদীগুলির মধ্যে একটি। এই নদীতে নামার কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারে না। নামলেই মৃত্যু অবধারিত।

 

কিলার লেক

নাম শুনে মনে হতে পারে একটা নদী করে কাউকে খুন করতে পারে। মনে হওয়ার কিছু নেই। এটা সত্যি। এই নদী নিমিষেই একটা প্রাণীকে খুন করার ক্ষমতা রাখে। 'খুনি হ্রদ’ বা killer lake এর অবস্থান ক্যামেরুনে। এর আসল নাম NYOS হলেও স্থানীয় ভাবে এটা খুনি হ্রদ নামেই পরিচিত। হ্রদটি একটদি মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের পাশে অবস্থিত। এটা লাভায় পরিপূর্ণ থাকলেও এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় পানি এবং এর মধ্য থেকে নির্গত হয় কার্বন–ডাই-অক্সাইড। খুনি হ্রদ নাম হওয়ার পেছনে এর মূল কাহিনী হচ্ছে ১৯৮৬ সালের দিকে এই হ্রদের মধ্য থেকে কার্বন–ডাই-অক্সাইড এর বিশাল বুদবুদ বের হয় যা সালফার এবং হাইড্রজেনের সাথে মিশে বায়ুমণ্ডলে চলে যায়। এর পর হ্রদের চারপাশের ২৩ কিঃ মিঃ জুড়ে ছড়িয়ে পরে এই গ্যাস। আর এই গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে প্রায় ১৭০০ লোক এবং ৩৫০০ গবাদি পশু মারা যায়। এর পর থেকেই এর হ্রদের নাম হয় খুনি হ্রদ বা কিলার লেক। এই হ্রদে অবকাশ যাপন তো দূরের কথা এর ২৩ মাইলের মধ্যে গেলেই মারা যেতে পারেন আপনি। বোঝাই যাচ্ছে লেকটির আশেপাশে থাকা খুব‌ই ভয়ের।আর কারও পক্ষেই সেটা সম্ভবপর নয়।

 

রিও টিনটো

স্পেনের একটি নদী রিও টিনটো | এটি অয়েল্ভা প্রদেশ থেকে জন্ম নেওয়ার পর আন্দা লুচিয়ার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর পানির রং রক্ত বর্ণ। অবাক লাগছে তাই না? ভাবছেন এও সম্ভব? হ্যা এটাও সম্ভব। আপনি এর চেয়েও বেশি চমকে উঠবেন যখন জানবেন,এই নদীর পানি কতটা ভয়ংকর। এতে বেশী মাত্রায় অ্যাসিড থাকায় কোন প্রানিই এই পানিতে বাঁচতে পারেনা। আশপাশের তামা,রূপা ও স্বর্ণের খনি থেকে নির্গত বিভিন্ন ধাতুর বর্জ্য এই নদীতে মিশে পানির এই অদ্ভুত লাল রং সৃষ্টি হয়েছে। এই নদীতে আজ পর্যন্তও কোনো প্রাণী টিকে থাকতে পারে নি।

 

লেক ইজেন

ইন্দোনেশিয়ার জাভা প্রদেশে অবস্থিত মাউন্ট মেরাপি আগ্নেয়গিরির পাশেই রয়েছে ইজেন নামের আরেকটি মৃত আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরি সংলগ্ন একটি সালফারের খনির কারনে এখানে সৃষ্টি হয়েছে লেক ইজেন।‌ এইটি বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত লেক। কোন প্রানিই বাঁচতে পারেনা এই লেকে।লেকটি এতটাই বিষাক্ত যে পাড়ে জন্মাতে পারেনি কোন গাছ। এই লেকের পানিতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ঘনীভূত সালফিউরিক এসিড। যে কারনে পানিতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই জীবিত কোন প্রানীও গলে যায়। কী ভয়ংকর,তাই না!হ্যা সত্যিই অনেক ভয়ংকর। আজ পর্যন্ত ওই পানিতে কোনো প্রাণীও নামার সাহস করে নি।

 

ফুটন্ত লেক

আমাদের পৃথিবীতে এমনও একটি লেক রয়েছে যার পানি ফুটন্ত। মনে হয় কেউ যেন পানি গরম করছে প্রতিনিয়ত। অবিশ্বাকর মনে হলেও এটাই সত্যি। ডমিনিকান রিপাবলিকের মর্নেটোয়া পিটার্নস ন্যাশনাল পার্কে রয়েছে এই অদ্ভুত লেক। ১৮৭০ সালে এই লেকটি আবিষ্কার করা হয়। এই লেকে রয়েছে প্রচণ্ড ফুটন্ত পানি, লেকের ধারের পানির তাপমাত্রা প্রায় ৯২ ডিগ্রী সেলসিয়েয়াস। কিন্তু লেকের মাঝখানে,জলের তাপমাত্রা এখনও রেকর্ড করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কেউ ওই ফুটন্ত লেকের মাঝখানে গিয়ে তার তাপমাত্রা রেকর্ড করার মতো দঃসাহস দেখায় নি। অতিরিক্ত উষ্ণতার জন্য এই পানিতে কোনও প্রাণীই বাচতে পারেনা। আজ পর্যন্ত বাচেও নি।
Previous Post
Next Post

1 comment: