Friday, May 10, 2019

বিশ্বের ৫টি রহস্যময় ঘটনা || 5 Mysterious events in the world

রহস্য শব্দটিই এমন, শোনার সাথে সাথে আমাদের চোখ কপালে উঠে যায়, একই সাথে সেই রহস্যের কীভাবে সমাধান হয়েছে বা কীভাবে করা যায় তা নিয়েও আমাদের আগ্রহের কোন শেষ থাকে না। পৃথিবীর নানান রহস্য কিন্তু আমাদের জ্ঞানভান্ডারকেও সমৃদ্ধ করে। রহস্য যেমন মানুষকে আনন্দ দেয়। তেমনি ধাধার মধ্যেও ফেলে দেয়। পৃথিবীতে অনেক রহস্যময় ঘটনা রয়েছে যা একাধারে মানুষকে ভীতও করেছে। এটা আবার কেমন রহস্য যেটা কিনা মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার করে। হ্যা বন্ধুরা পৃথিবীতে এমনও অনেক রহস্য ভরা ঘটনা আছে যা মানুষকে ভয়ও পাইয়ে দিয়েছে। তবে সেটি কি ভুত বা কোনো আত্মা?? উহু! এখনই কিছু বলছি না। জানতে হলে আমার সাথেই থাকুন। রুমের দরজা, জানালা বন্ধ করে মন দিয়ে আমি যা বলছি শুনুন। আচ্ছা বন্ধুরা তাহলে শুরু করা যাক-

বিশ্বের ৫টি রহস্যময় ঘটনা

5 Mysterious events in the world
বিশ্বের ৫টি রহস্যময় ঘটনা

Devil's Kettle

এটা এমন জায়গা যার কথা শুনলে আপনাদের চোখ কপালে ওঠে যাবে। এটি হচ্ছে এক আশ্চর্যজনক ঝরনা। ব্লু রিভার নামে নদীটি এই ঝর্নার কাছে এসে শেষ হয়েছে। তারপর নদীটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একটি ভাগ ঝর্নার পানি হয়ে নিচে গিয়ে নিচের সুপিরিয়র লেকের পানির সাথে মিশে গিয়েছে। আর অন্য অংশ....। হ্যা এখানেই আমাদের উত্তর নেই। কেউই জানে এই পানি ঠিক কোথায় যায়। শুধু আমি আপনি কেন। এই ঘটনার ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানও দিতে পারে নি। এই ঘটনার রহস্য বুঝতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এই অংশের পানির মধ্যে রং মেশায় এবং অপেক্ষা করে এই পানি লেকের আশে পাশে ঠিক কোথায় যায়। তারা ব্যর্থ হয়। এরপর তারা পানির সাথে পিংপং বল মিশিয়ে ছেড়ে দেয়। কিন্তু না। এ বলও উধাও হয়ে যায়। এ পানি কোথায় যায় তার ব্যাখ্যা তারা আজও পায় নি।

Murder of princess Diana

আরেকটি সব থেকে বিতর্কিত ঘটনা হল প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড। ডায়নার সাথে ফাহাদের এক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়না এবং তার প্রেমিক ফাহাদ এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। আর এই ঘটনার রহস্য  সবার কাছে এখনও অজানা। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের নির্দেশে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্হা MI6 এই দূর্ঘটনার আড়ালে এই ভয়াবহ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছিলো। প্রিন্সেস ডায়না ছিল অনেক জনপ্রিয় মুখ। অন্যদিকে তিনি ছিলেন সত্যাদি। অনেকে মনে করেন প্রিন্সেস ডায়নার তুমুল জনপ্রিয়তা, সত্যবাদিতা এবং রাজপরিবারের সমালোচনা ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে অস্বস্তিকর অবস্হায় ফেলে দিয়েছিলো। আবার ফাহ়াদের সাথে প্রিন্সেস ডায়নার সম্পর্ক ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং ইংল্যান্ডের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার এক বিশাল ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিলো, তাই হয়তো এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছিল। কিন্তু হত্যার পারফেক্ট সত্য এখনও অজানা।

The sleeping of Karachi

কাজাক স্থানে অবস্থিত এই স্থানটি। এটি অদ্ভুত একটা স্থান। আর এই স্থানের লোকজনও একটা আজব সমস্যার সম্মুখীন। এই লোকগুলো যেখানে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে। এমনকি তারা হাটা অবস্থায় রাস্তার মধ্যে ঘুমিয়ে পরছে। যার কারনে তাদের মধ্যে মেমোরি লস, হ্যালুসিনেশনও দেখা দিচ্ছে। এটি সব নারী-পুরুষ,বাচ্চা সবার মধ্যেই হচ্ছে। অনেকের ধারনা এটি রেডিয়েশন পয়েজনিং এর জন্য হচ্ছে। কারন এই এলাকায় অনেক কাছেই ইউরেনিয়াম মাইন ছিল। তবে এগুলো শুধু মত্রই ধারনা ছিল। কেউই এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ডাক্তাররা তাদের ব্লাড টেস্ট করেও কিছু ধরতে পারেনি।

Double tree of casorzo

ইতালির তিয়ামন্টি শহরে এক আজব ঘটনার দেখা মেলে। সেখানে একটা চেরি গাছ আছে। সেটি দেখতে কোনো সাধারন চেরি গাছের মতোই। কিন্তু পার্থক্য শুধু এটাই যে সেটা সরাসরি না জন্মে অন্য একটি গাছের উপরে জন্মেছে। তবে অনেক গাছই পছে যা কিনা অন্য আরেকটি গাছের উপর জন্মায়। কিন্তু সেই গাছগুলা তুলনায় ছোট হয়ে থাকে। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এই গাছটি ছিল সম্পূর্ণ হেলদি। এমনকি যখন উপরের গাছে ফল ধরে তখন নিচের গাছটি ফল শূণ্য থাকে এবং যখন নিচের গাছটিতে ফল ধরে তখন উপরের গাছটি ফল দেয় না।এই ঘটনার ব্যাখ্যা মেলা ভার।

Movile Cave

রোমানিয়ার দক্ষিণ পূর্ব দিকে একটা অদ্ভুত রকমের গুহা আছে। যার মধ্যে পজরায় সাড়ে ৫ মিলিয়ন বছর ধরে কোনো আলো প্রবেশ করতে পারে নি। এই গুহাটি কয়েকজন অর্কার মিলে আবিষ্কার করে। তারা সেই গুহায় পাওয়ার প্ল্যান্ট সেট আপ করতে এসেছিল। এমনকি তারা এই গুহার ভেতরে যাবার চেষ্টা করে। এমনকি তারা এই গুহার ভেতরে কিছু রাস্তা বের করে। যে রাস্তা ধরে ভেতরের দিকে গেলে একটা চেম্বারের দেখা পাওয়া যায়।যেখানে সালফিউরিক এসিডে ভরা। এমনকি রয়েছে ভুপৃ্ষ্ঠের থেকেও ১০০গুন বেশি কার্বন–ডাই-অক্সাইড। আরও আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো এই গুহার মধ্যে য়েছে প্রায় ৩৩ প্রজাতির প্রানী রয়েছে যাদের কিনা গুহার বাইরে নিয়ে আসা হলেই তারা মারা যায়। কারন তারা ওই বিষাক্ত পরিবেশের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে।
Previous Post
Next Post

0 comments: