মানুষ ভোজনপ্রিয়। তারা খেতে অনেক বেশি পছন্দ করে। তার মধ্যে সেই খাবার গুলা যদি নতুন হয় তাহলে যেন তাদের আগ্রহের শেষ নেই। যেটা খাওয়া যায় মানুষ সেটাও খায়। আবার যেইটা খাওয়ার কথা ভাবতেও আপনার বমি চলে আসার সম্ভাবনা থাকতে পারে সেই খাবার গুলাও তারা অনেক আনন্দের সাথে খায়। কি অদ্ভুত তাই না? আসলে পৃথিবী এখন আর পিছিয়ে নেই। অনেক অসম্ভব কাজও এখন সম্ভব। এখন অনুপযোগী খাবার কেউ মানুষ নিজেদের যথাযথ চেষ্টার দ্বারা খাওয়ার উপযোগি করে তুলেছে। আসুন তাহলে সেই বিচিত্ররকমের খাবার সম্পর্কে আলোচনা করি। যা আপনাদের অবাক করে দেবে। এমনকি বমিও করে দিতে পারেন। চলুন তাহলে শুরু করা যাক-
বিশ্বের সবথেকে জঘন্য রকমের কয়েকটি খাবার :
 |
| বিশ্বের সবথেকে জঘন্য রকমের কয়েকটি খাবার |
ব্লাড ক্লাম
এটি একটি ঝিনুক জাতীয় খাবার। এর প্রচলন রয়েছে জাপানে। এটি মাত্র ২০সেকেন্ড সময় নিয়ে রান্না করা হয়। ধরা যায় এটাকে কাচায় খাওয়া হয়। কারন ২০সেকেন্ড খুব কম সময়। এই খাবারটি জাপানে ব্যান করা হয়েছে। এমনকি এটি আমদানি এবং রপ্তানী করার সময় ধরা পরলে অনেক বড় রকমের শাস্তি দেওয়া হয়। কি?অবাক হলেন তো? ভাবছেন খাবারটি কেন ব্যান করা হল। আসলে খুব কম সময় ধরে রান্না করা হয় বলে এর মধ্যে থাকা জীবাণু গুলো জিবন্তই থাকে। যার ফলে মানুষের মধ্যে হেপাটাইটিসের মতো রোগ বাসা বাধতে পারে। শতকরা ১৫-২০% সম্ভাবনা রয়েছে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার।
স্যান জুয়ান ডেলো রিঙ্গাচু-লিমা
এটি একধরনের ড্রিংকস। চামড়া ছাড়ানো একটি ব্যাঙ ব্লেন্ডারে রাখা হয়। তারপর সেটাকে ব্লেন্ড করা হয়। এই খাবারটি পেরুতে বসবাসকারী লোকেদের বেশি খেতে দেখা যায়। তাদের ধারনা এই খাবারটি অনেক রোগের নিরাময় ঘটায়। এমনকি শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতাকে কামতে সাহায্য করে। এর জন্য তারা এই খাবারটিকে বেশি প্রাধান্য দেয়।
ফ্রেইড ট্যারেন্টুলা
এটি মাকড়সা জাতীয় এক ধরনের পোকা। এটি এতোই বিষাক্ত পোকা যে একজন ব্যক্তি এর কামড়ে সহজেই মৃত্যবরণ করে থাকে। অবাক করার মতো বিষয় হল এই পোকাকেও মানুষ খায়। কম্বোডিয়াতে এটি একটি রেগুলার খাবার। সেখানে ছোট বড় সবাই এই খাবার অনেক আনন্দের সাথে খেয়ে থাকে। এই খাবারের অদ্ভুত একটি ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়াতে এক আন্দলোন হয়। সেই আন্দলোনের কারনে সবাই দুর্ভিক্ষের শিকাড় হয়। তখন তারা কোনো খাবার না পেয়ে পোকা মাকড় খেয়ে বেচে থাকে। তার মধ্যে ট্যারেন্টুলা ও ছিল। ঠিক সেখান থেকেই এই খাবারের প্রচলন শুরু হয় সে দেশে।
জীবন্ত কোবরা
আচ্ছা আপনারা কখনও জীবন্ত সাপ খেয়েছেন? হয়তো আমার প্রশ্নটা করাই বোকামি। কারন কেউ সাপ খেতে পারলেও জীবন্ত খাওয়া একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু সেটাকেও সম্ভব করে নিয়েছে। ভিয়েতনামের হানুই শহরের পাশে একটা ছোট গ্রাম রয়েছে যার নাম লিমাথ। আমার জানা মতে জীবন্ত কোবরার এই অবাক করা ডিশ শুধু এখানেই পাবেন। এখানে খাবার সার্ব করা লোকগুলোও কেমন যেন অদ্ভুত টাইপের। তারা প্রথমে আপনার সামনে একটি জীবন্ত কোবরাকে মেরে ফেলবে। তারপর তার রক্ত আপনাকে খেতে দিবে। এবার আপনাকে কোবরার বিষ খেতে দেওয়া হবে। যা ভাবতেও গা শিউরে উঠছে। তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বিষটাকে আপনি তখনই ক্ষতি করবে যখন আপনার রক্তের সাথে সেটা মিশে যাবে। কিন্তু তার আগেই সেটি পেটে গিয়ে সহজেই সেটি হজম হয়ে যাবে। তবে সাবধান আপনার মুখে যদি আলসার থাকে তবে সেই বিষ রক্তের সাথে মিশে আপনার মৃত্যু হবে। তারপর আপনাকে কোবরার বিভিন্ন অংশ কেটে কেটে খেতে দেওয়া হবে। এবং সব শেষে খেতে দেওয়া হবে কোবরার জীবন্ত হার্ট। তবে সেটি একেবারেই কাচা।
0 comments: