Monday, May 27, 2019

একটু অন্যরকম || বাংলা রোমান্টিক লাভ স্টোরি

একটু অন্যরকম

রোমান্টিক বাংলা লাভ স্টোরি  (ভালোবাসার গল্প)

লেখক - অভ্র

রোমান্টিক গল্প
রোমান্টিক গল্প

সবাই বলে আমি নাকি সবার থেকে আলাদা। কি জানি আমি তো নিজের মধ্যে আলাদা কিছু খুঁজেই পাইনা। মাঝে মাঝে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে যাই এই আলাদা আমিকে। তবুও পাইনা। ধূর, ভাল্লাগেনা। কি করি বলেন তো!

সিয়ামের কথাগুলো শুনে নীরা তো হাসতে হাসতে শেষ। অবশেষে হাসি থামিয়ে নীরা বলে উঠলো আলাদাই তো

সিয়াম- না মানে সিরিয়াসলি? কিভাবে?

নীরা- না মানে দেখো এত সুন্দরী একটা স্মার্ট একটা মেয়ে তুমার সাথে বসে আছে তাকে তুমি তুমি করে বলবে কি তা না সেই আপনি আপনি করে বলছো।

সিয়াম- এইটা কোনো যৌক্তিক কারণ হলো?

নীরা- হ্যাঁ হলোই তো। তুমি আলাদা বলেই তো আপনি করে বলছো। দেখো আমি তুমি বলি আর তুমি আপনি বলো। অথচ অন্য কোনো ছেলে হলে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো ঘটত। ছেলেটা তুমি করেই বলতো মেয়েটাকে। হয়তো মেয়েটা আপনি করে বলতো কয়েকবার তারপর তুমি করেই বলতো।

সিয়াম- হুহ আমি মেয়েদের আপনি করেই বলি।

নীরা- এরজন্যই তোমাকে সবাই আলাদা বলে। এরকম আরো অনেক কারণ আছে বুঝলা। যেমন তুমি মেয়েদের সাথে কথা বলো না,, কোনো মেয়ে ডাক দিলে তাকে ইগনোর করো। আবার কারো হেল্প লাগলে তুমিই আগে যাও ইত্যাদি ইত্যাদি।

সিয়াম- হুম। থাক আর ব্যাখ্যা দিতে হবেনা।

নীরা- যাহা হুকুম জনাব।

সিয়াম- চলো তাহলে এবার উঠি সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।

নীরা- কিই তুমি তুমি করে বলছো? সত্যি? মানে আবার বলো তো,,,।।।

সিয়াম- হইছে আর ধং করতে হবে না,, উঠো।

নীরা- আহ,, সত্যি তুমার তুমি ডাকটানা বটতলার সেই মামার চায়ের দোকানের মামার চায়ের থেকেও মিষ্টি।

সিয়াম- হাহাহা তুমি পারোও পাম দিতে। কবে যে ফুলে ব্রাস্ট হয়ে যাবো।

এভাবে কথা বলতে বলতে হাটতে হাটতে নীরাদের বাসার কাছে চলে আসলো ওরা দুজন। নীরাকে বাই বলে সিয়াম হাঁটতে লাগলো।

নীরাতো বড্ড খুশি। আজ তাকে সিয়াম এই ২ বছরের পরিচয়ে প্রথম তুমি করে বলছে।

নীরা আর সিয়ামের পরিচয় হয় ভার্সিটিতে ভর্তির কিছুদিন পর। সবার থেকে আলাদা হওয়ায় নীরার খুব ভালোলেগে যায় সিয়ামকে। যেটাকে অনেকটা বলে লাভ এট ফাস্ট সাইড। নীরা অনেক কষ্টে সিয়ামের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারলেও আজ পর্যন্ত বোঝাতে পারেনি যে, সে তাকে ভালোবাসে। নীরার মনে ভয় কাজ করে যে সিয়াম এমনিতেই অন্যরকম,  তার উপর এগুলো বললে ও যদি কথা না বলে তাই সে এই আশা নিয়ে তার ফ্রেন্ডশিপটাকেই ২ বছর ধরে কন্টিনিউ করে আসছে যে সিয়াম একদিন ঠিক বুঝতে পারবে।

সিয়াম অনেক শান্ত আর ভালো একটা ছেলে। বাবা মায়ের খুব আদরের। এতো আদরের যে ওর মা এতো বড়ো হওয়া সত্যেও এখনো ওকে গোসল করিয়ে দেয়। সিয়ামের বেষ্ট ফ্রেন্ড হচ্ছে তার ছোটো বোন আলেয়া। ভাইয়ার পেটের সব কথা যতক্ষণ সে জানতে না পারবে ততক্ষণে তার ঘুম হবে না।

সিয়াম বাসায় ঢুকলো। হাত মুখ ধুয়ে মায়ের কাছে বারান্দায় গিয়ে বসে পড়লো। ওখানেই ছিলো আলেয়া।

সিয়ামের মা- কি বাবা নীরার সাথে দেখা হলো?

সিয়াম অন্যরকম হওয়ায় সে তার মায়ের কাছেও কিছু লুকোয় নি। বাসার সবাই নীরাকে চিনে আর পছন্দও করে। তবে তারা অপেক্ষায় আছে কবে তাদের ছেলে মুখ ফুটে নীরাকে ভালোলাগার কথা তাদের বলে। যদিও সিয়ামের মধ্যে এরকম কোনো ভাবনাই নেই। সে জে অন্যরকম। সে নীরাকে ফ্রেন্ড ছাড়া আর কিছু ভাবেই না।

সিয়াম- হ্যাঁ হলো তো।

আলেয়া- তা কি গল্প করলি ভাবীর সাথে এতক্ষণ?

সিয়াম- ওই ভাবি মানে? ও আমার ফ্রেন্ড।  তোর ভাবি হবে কেনো?

আলেয়া- বুঝি বুঝি ফ্রেন্ড না কি।

সিয়াম- মা ওকে চুপ করতে বলবে। নাহলে কিন্তু,,

সিয়ামের মা- হাহাহা আলেয়া তুই থাম। তুই জানিস না তোর ভাইয়া কেমন?

আলেয়া- মা তুমি আমার থেকে ওরে বেশি চিনো না। আচ্ছা ভাইয়া, অনেকদিন তো হলো প্রেম করলি। এখন প্রোপোজটা করেই ফেল। কি সুন্দর দেখতে নীরা আপু। একেবারে পুতুলের মতো।

সিয়াম- থামবি তুই?

আলেয়া- তোর ভালোর জন্যই বললাম। অন্য কেউ করে ফেললে কষ্ট পাবি তখন হাহা দেবদাস ভাই আমার তখন দেখতে কেমন হবে হাহাহা। আচ্ছা তখন কি তুই মাথার চুল আর দাঁড়ি রেখে দিবি?

সিয়াম- মা এবার সত্যি ও কিন্তু বাড়াবাড়ি করছে।

এগুলো শুনে মা হাসতে হাসতে আলেয়াকে থামানোর চেষ্টা করছে।

সিয়াম আর আলেয়ার বয়সের ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় সারাক্ষণ দুইজনের এভাবে লেগেই থাকে৷ তবে দিনশেষে একে অপরের সবথেকে কাছের বন্ধু।

পরেরদিন সকালে সিয়াম ভার্সিটি গেলো। আজ সে বাড়ি থেকে ঠিক করেই বের হইছে সে আর আলাদা বলতে দিবেনা কাউকে। সবাই সবার সাথে যেমন মিশে, বিহেব করে,  সেও ওরকম নরমাল থাকার চেষ্টা করবে।

ক্লাসে আজ নীরা লক্ষ করলো সিয়াম খুব হাসিখুশি,, সে সবার সাথে আড্ডা দিচ্ছে। তাকেও এসে জিজ্ঞেস করলো কেমন আছো? সে আর কি উত্তর দিবে, এত চেঞ্জ তো সে বিশ্বাস ই করতে পারছিলো না।  সব ঠিক ছিলো যতক্ষণ পর্যন্ত অঘটন টা না ঘটলো। ভার্সিটি ছুটি হলে সিয়ামকে মেঘলা নামের একজন ডাক দিলে সে তার উত্তর নেয় এবং তার সাথে কথা বলতে বলতে সে ক্যাম্পাসে হাঁটতে থাকে। এটা দেখে শুরুতে নীরার একটু খারাপ লাগলেও সে নিজেকে বোঝানোর ট্রাই করে এটাতো স্বাভাবিকই। কথা তো বলতেই পারে। 

কথা বলতে বলতে সিয়াম ক্যাম্পাস থেকে ৩নং গেটে চলে আসে যেখানে নীরা ওয়েট করছিলো। মেঘলাকে বাই বলে নীরার কাছে এসে দাঁড়ালো সিয়াম।

সিয়াম- সরি নীরা একটু লেট হয়ে গেলো মেঘলার সাথে কথা বলতে বলতে।

নীরা- ইটস ওকে।

সিয়াম- ফুসকা খাবে?

নীরা- না সিয়াম আজ ভালো লাগছেনা, চলো বাসার দিকে যাই।

সিয়াম- আচ্ছা ঠিক আছে।

বিকেলে নীরা লেকের পাড়ে বসে বসে অপেক্ষা করছে ২০ মিনিট হয়ে গেলো। সিয়াম এখনো আসেনি। ২ বছরে কোনোদিনও এরকম হয়নি। হঠাৎ একটা মেসেজ আসলো নীরার ফোনে,

সিয়াম- সরি নীরা আজ আসতে পারলাম না। একটু ফ্রেন্ডদের সাথে মোহাম্মদপুর যাচ্ছি। প্লিজ রাগ করো না। কালকে দেখা হবে কেমন।

নীরার এই মেসেজটা পরে অনেকটা কান্না চলে আসলো। দুই বছরে এমন একদিনও হয়নি যে সিয়াম আসেনি। তবে সে নিজেকে সামলে নিলো। সে ভাবলো সিয়ামের এই চেঞ্জটাও একটু দরকার নাহলে সে একঘেয়ে হয়ে যাবে। নীরা ওই বিকেলে একাই হাটঁতে হাটঁতে বাড়ি চলে গেলো।

বাড়ি ঢুকতেই নীরাকে দেখে তার মা তাকে জিজ্ঞেস করলো,

- কিরে ওরকম মন খারাপ করে আছিস কেনো? কি হয়েছে? সিয়াম কিছু বলছে?

নীরার বাবা মাও সিয়ামের সাথে তার মেয়ের ফ্রেন্ডশিপ সম্পর্কে জানে।

নীরা- না মা। ও তো আসেই নি আজকে।

- কেনো অসুস্থ?

নীরা- না,,  ফ্রেন্ডদের সাথে বের হইছে

- ও তাই আমার মেয়ের মন খারাপ।  বোকা মেয়ে।

এভাবে কয়েকদিন চলে গেলো। সিয়াম আস্তে আস্তে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। নীরা লক্ষ করলো সিয়াম ওকে অনেকটা ইগনোর করা শুরু করেছে। তাকে একেবারেই সময় দেয়না। তার সাথে বিকেলে দেখা করার সময় সিয়ামের হয়না। আবার ভার্সিটি থেকেও একাই চলে আসে। নীরার খুব খারাপ লাগতে লাগে বিষয়গুলো। কারণ গত দুই বছরে সে সিয়ামকে বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলেছে।

হঠাৎ নীরার জ্বর এসে পরে। অনেকদিন সে ভার্সিটিতে যায়না। সিয়াম এবার ব্যাপারটা নোটিশ করে। সে নীরাকে ফোন দেয়। কিন্তু ফোন অফ। সে ভাবতে লাগে হঠাৎ কি হলো মেয়েটার।

ওইদিন বিকেলে সিয়াম ওই লেকের কাছে আসে নীরার সাথে দেখা করতে। কিন্তু নীরা আসেনা। সে আবার নীরাকে ফোন দেয়। এবারো ফোন অফ।

সিয়াম এবার দুশ্চিন্তায় পরে যায়। পরের দিন ভার্সিটিতে নীরাকে না দেখে সে সরাসরি নীরাদের বাসায় চলে যায়। দেখে নীরা শুয়ে আছে আর ওর মা মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে। মেয়েটার মুখ শুকিয়ে গেছে। প্রচন্ড জ্বর কয়েকদিন ধরেই।

নীরার মা- দেখো তুমার কথা ভাবতে ভাবতে কি জ্বরটাই না বাধিয়েছে। গত কয়েকদিন তুমার সাথে দেখা করতে বিকেলে বের হয় কিন্তু দেখা না হওয়ায় আপসেট হয়ে বসে থাকে। আর হঠাৎ করেই এত্ত জ্বর। তোমাদের কি ঝগড়া হয়েছে সিয়াম?

সিয়াম কি বলবে বুঝে উঠতে পারেনা। ও বুঝতে পারে এভাবে নীরাকে ইগনোর করা ওর ঠিক হয়নি। বেচারি অনেক কষ্ট পেয়েছে।

সে সেখানে কতক্ষণ চুপ করে বসে থেকে পরে বাড়িতে চলে আসে।

সিয়ামের অনেক খারাপ লাগে। ও বুঝার চেষ্টা করে নীরার এমন কেনো হলো? তবে কি নীরা ওকে ভালোবাসে? ওর অন্যরকম থাকাই কি নীরার ভালোলাগা?

প্রশ্নগুলো ওর মাথায় ঘুরতে থাকে। অবশেষে ও সব কথা ওর বেস্টফ্রেন্ড ছোটোবোন আলেয়ার কাছে বলে। আলেয়া সব শুনে বলে

আলেয়া- কবে বড় হবি ভাইয়া তুই? এখনো বুঝতে পারছিসনা যে নীরা আপু তোকে কতটা ভালোবাসে।

সিয়াম চোপ করে থাকে। ও বুঝতে পারে নীরার জন্য ওরও খারাপ লাগছে।

যতদিন নীরা অসুস্থ ছিলো সিয়াম নীরাদের বাসায় গিয়ে নীরাকে দেখে আসতো আর বিকেলে হাঁটতে বের হতো।  নীরাও এতে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে।

অবশেষে একদিন বিকেলে,

সিয়াম- আচ্ছা নীরা আমি তো অন্যরকম তাইনা?

নীরা- মোটেও না তুমি সবার মতনই স্বার্থপর।

সিয়াম- তাই?

নীরা- কেনো তুমার অন্যরকম থাকতে ভালোলাগে না? সবার মতন কেনো হতে হবে? এই বলে নীরা রাগিয়ে উঠে চলে যাচ্ছিলো।

নীরার হাত ধরে টান দিয়ে,

সিয়াম- আচ্ছা নীরা কেউ রাগ করলে তার রাগ ভাঙিয়ে তাকে প্রোপোজ করা ঠিক হবে নাকি রাগ না ভাঙিয়েই প্রোপোজ করতে হবে?

নীরা মুচকি হেসে সিয়ামকে জড়িয়ে ধরলো।


[THE END]

Keywords-
রোমান্টিক গল্প, গল্প, ভালোবাসার গল্প


বি.দ্রঃ এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক।  যদি ঘটনাচক্রে কারো বাস্তব জীবনের সাথে মিলে যায় তবে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। এক্ষেত্রে লেখকের ভাবনা থেকে লেখাকে  ক্ষমাসূলভ দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। 

Tags-
love story bangladeshi, bangla sms sad love bangla, most heart touching video 2019, heat teaching love story, Very Romantic Bengali love story, valobashar kobita valobashar golpo, valobashar golpo kotha mp3, valobashar golpo natok, valobashar golpo song, bengali romantic love letter, bangla sad valobashar golpo, bangla love story kobita, Sad love story Bangla, valobashar golpo bangla, Most heart touching sad love story make you cry,  
Previous Post
Next Post

0 comments: