রহস্যময়ী পৃথিবীর অজানা পাঁচটি রহস্য যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞানও দিতে পারেনি
আমাদের পৃথিবী খুবই রহস্যময়ী। যার মধ্যে এমন কিছু রহস্য আছে যা আমরা সবাই জানি। আবার এমন কিছু রহস্য আছে যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞানও দিতে পারে নি। চলুন আজ এমন কিছু রহস্যের ব্যপারে জেনে নেই-১.মৃত্যুর পূর্বেই মৃত্যুর দিন গণনা :
আমরা সবাই মরণশীল। সবাইকে একদিন না একদিন মৃত্যু কে বরণ করে নিতেই হবে। আমরা সবাই মৃত্যুকে অনেক ভয় করি। কিন্তু সেই মৃত্যুর দিন যদি কেউ আগেই গণনা করতে পারে তাহলে সেটা ঠিক কতটা ভয়ানক হতে পারে ভেবে দেখেছেন। হয়তো কথাটা বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এটা কি করে সম্ভব। হ্যা এটাই সম্ভব হয়েছে। ১৯৬৭ সালে ২৬শে মে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছিলেন Abraham De Movre. তিনি ছিলেন একজন সুপরিচিত গণিতবিদ। তিনি সর্বপ্রথম জটিল সংখ্যা ও ত্রিকোণমিতির মিলবন্ধনের সূত্র তৈরি করেছিলেন।তিনি ছিলেন অনেক মেধাবী। তাই তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ চার বছর সেখানে শিক্ষা গ্রহণ করে। চার বছর পর ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে বসতি স্থাপন করে। সেখানে আইজ্যাক নিউটনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়। ১৭৫৪ সালে ৮৪বছর বয়সে তার শরীরের সব অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দেয়। নিজেকে দিন দিন অক্ষম ভাবতে শুরু করেন তিনি। এমনকি তার ঘুম স্বাভাবিক মানুষের থেকে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট করে বেড়েই চলছিল। যেমন আজ অতিরিক্ত ১৫ মিনিট হলে কাল ১৫+১৫=৩০ মিনিট। এভাবেই তার ঘুম ক্রমশই বাড়তে শুরু করে। এ দেখে তিনি ভবিষ্যৎ বাণী করেন এভাবে ১৫ মিনিট করে বাড়তে বাড়তে যেদিন ২৪ ঘন্টায় পরিণত হবে সেদিনই তার মৃত্যু হবে। খুব আজব মনে হচ্ছে তাই না। কিন্তু এটাই হয়েছে। সেই বছরে ২৭শে নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।
২.অস্বাভাবিক মধ্যাকর্ষণ বলের ক্রিয়া :
অনেক ছোটবেলা থেকেই আমরা মধ্যাকর্ষণ সম্বন্ধে পরিচিত। এ মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে পৃথিবীর সমস্ত বস্তু তার দিকে টানে। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন মধ্যাকর্ষণ না থাকলে কি অবস্থাটাই না হতো। এমনটা কি সম্ভব??? হ্যা বন্ধুরা এটাও সম্ভব। পৃথিবীতে এমন সব আশ্চর্য স্থান রয়েছে যেখানে কিনা মধ্যাকর্ষণ বল স্বাভাবিক ভাবে কাজ করে না। এমন একটি স্থান হচ্ছে তুর্কি। তুর্কির বর্ডার ঘেষে এমন এক স্থান আছে যেখানে মধ্যাকর্ষণ বল অস্বাভাবিক ভাবে কাজ করে। এখানে পাহাড়ের গা ঘেষে গাড়ি নিউট্রল করে রাখলেও সেই গাড়িটি স্বাভাবিক ভাবে নিচের দিকে না গিয়ে উপরের দিকে চলতে শুরু করে। শুধু কি তাই আরও মজার ব্যপার হলো আশেপাশে পানিও নিচের দিকে না গিয়ে উপরের দিকে বয়তে থাকে। এই অদ্ভুত স্থান পরিদর্শন করতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক আসে।
৩.Boeing 727 এর চুরি :
আপনারা অনেক প্রকার চুরির কথায় শুনেছেন (মোটর সাইকেল,মোটর বাইক,গাড়ি,বাস,ট্রাক)। কিন্তু কখনও কি শুনেছেন এয়ারপোর্ট থেকে কোনো যাত্রীবাহী বিমান চুরি হয়েছে??? কি শুনেন নি তো??? সত্যিই এটা অবাক করার মতোই। একটা এয়ারপোর্ট থেকে কি করে একটা বিমান চুরি হয়ে যেতে পারে। তবে এমনটাই হয়েছে। ২০০৩ সালে Angora এয়ারপোর্ট থেকে Boeing 727 চুরি হয়ে যায়। কিন্তু আজ পর্যন্তও এই চুরির রহস্য কেউ উদঘাটন করতে পারে নি। কে, কিভাবে এই যাত্রীবাহী বিমান চুরি করল তা আজও রহস্যই রয়ে গেছে সবার কাছে।
৪.অবাক করা রেস্টুরেন্ট :
বিজনেস এক ধরনের আইডিয়া। যতো ভালো আইডিয়া ততো সাফল্য। এটা বুদ্ধিমানরা অনেক ভালো ভাবেই বোঝে তাই তারা তাদের নানা রকম আইডিয়া দিয়ে এমন সব রেস্টুরেন্ট তৈরি করেছে যা অভাবনীয় এবং আশ্চর্যজনক। আচ্ছা আপনারা একটু ভাবুন তো আপনি এমন একটি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেছেন যেখানে কিনা চারিদিকে জমজ ছেলেমেয়েরা ঘুরছে। কি অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন এটাও সম্ভব। হ্যা এটাও সম্ভব। এমন একটি রেস্টুরেন্ট হলো Twin Star Restaurant.যেটা কিনা মস্কো শহরে অবস্থিত। যেখানে কাজের জন্য শুধুমাত্র জমজ লোকেদেরই রাখা হয়। খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে বিল নেওয়া পর্যন্ত সবাই জোড়ায় জোড়ায় একই রকম পোশাক পরে করে। সম্পূর্ণ রাশিয়া থেকে এমন সব জমজ ছেলে মেয়েদের উচ্চ বেতনে কাজের জন্য নিয়োগ করেন।
৫.খোলা সমুদ্রে ১৫৭দিন সাতার কাটা :
ইচ্ছাশক্তি অনেক বড় শক্তি। ইচ্ছা শক্তির দ্বারা অনেক অসম্ভবকেই সম্ভব করা যায়। এমন কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি রয়েছে পৃথিবীতে যারা কিনা ইচ্ছাশক্তির সাহায্যেই অনেক কিছু জয় করেছেন। এমন একজন ব্যক্তি হলেন Ross Edgley. তিনি চেয়েছিলেন পৃথিবীকে আলাদা ভাবে ডিসকভার করতে। তিনিই পৃথিবীর একমাত্র সাতারু যে কিনা ১৫৭ দিনে সাতার কেটে ইউনাইটেড কিংডমের চারদিকে ঘুরেছিলেন। আর এই জার্নিতে একদিনও তিনি মাটিতে পা রাখেন নি। তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন ২০১১ সালের ১লা জুন। তিনি সাতার কেটে ইংল্যান্ডের আইল্যান্ড,স্কটল্যান্ড ক্রস করেন। তার এই জার্নির প্রতিমুহূর্ত ট্র্যাক করা হয়েছিল। টানা ছয় ঘন্টা সাতার কাটার পর তিনি খাবার খেয়ে বোটে বিশ্রাম নিতো এবং ঘুমাতো। অর্থাৎ একদিনে ২ বার ঘুমাতো এবং সাতার কাটতো। তাকে বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। যেমন ঘাড়ে ব্যথা হওয়া, সারা মুখ নোনতা হয়ে যাওয়া, সারা মুখে জেলি ফিশ কামড়ে দেওয়া। এমনকি এক বড় রকমের ঝড়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। ১৫৭ দিনের মধ্যে তাকে সর্বোচ্চ ৬ বার সুইমিং স্যুট পরিবর্তন করতে হয়েছিল তাকে। Ross ৩৩তম জন্মদিন বোটেই পালন করেছিলেন। ৪ই নভেম্বর ২০১১ সালে তিনি তার জার্নি শেষ করেন। তিনি সর্বমোট ২০৮৪ কিলোমিটার সাতার কেটেছিলেন যা ৫৭৬৭৯ টি অলিম্পিক সুইমিং পুলকে পার করার সমান। নোনতা পানিতে তার চামড়ার খারাপ অবস্থার পরিবর্তন করতে ৩ কিলোগ্রামের মতো পেট্রোলিয়াম জেলির দরকার হয়েছিল। এমনকি নোনতা পানিতে তাকে ৩৭টিরও বেশি জেলি ফিশ কাটা ফুটিয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন তিনি প্রথম দিন টানা ৬ ঘন্টা সাতার কাটার পর হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন শুধুমাত্র সাতার কেটে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অর্জন করা সহজ ব্যপার নয়। কিন্তু তার সঙ্গীরা তাকে আশা জুগিয়েছেন।
0 comments: