Tuesday, April 30, 2019

পৃথিবীর রহস্যময় ৫টি জাহাজ

রহস্য নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে কার না ভাল লাগে। রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর কিছু ঘটনা রয়েছে যা সম্পর্কে জানলে আপনার চোখ কপালে উঠে যাবে। এমনকি মনে হবে আপনি কোনো রূপকথার গল্প শুনছেন। কিন্তু এসব কোনো রূপকথার গল্প নয়। একদম সত্যি ঘটনা। আজকের আয়োজনে থাকছে ভয়ংকর এমন সব জাহাজ নিয়ে কিছু ঘটনা। যেসব ঘটনার কূল কিনারা খুজে পাওয়া যায় নি। কি ভাবছেন? চলুন শুরু করা যাক-


The world's mysterious 5 ships
পৃথিবীর রহস্যময় ৫টি জাহাজ


পৃথিবীর রহস্যময় ৫টি জাহাজ

The Ambi Joyita

১৭৪৮ সালে ভালোবাসা দিবসের একদিন আগে সমুদ্রে এক জাহাজে উৎসব চলছিল। উৎসবটা ছিল ওই জাহাজের ক্যাপ্টেনের বিয়ের অনুষ্ঠান। কিন্তু জাহাজটিতে এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যার এই অনুষ্ঠান একেবারেই অসহ্য লাগছিল। তিনি ছিলেন ওই জাহাজের ক্যাপ্টেনের বন্ধু। কারন এই বন্ধুটি  ওই মেয়েকে ভালোবাসতো যার সাথে ক্যাপ্টেনের বিয়ে হচ্ছিল। আর এই প্রতিহিংসা থেকে সে জাহাজটিকে এমন এক জায়গায় যেখান থেকে আর কেউ ফিরে আসতে পারেনি।জাহাজে থাকা কেউই বেচে থাকে না। আর তারপর থেকে জাহাজটি একা একাই সমুদ্রে ভাসতে থাকে। ৫০ বছর পর পর জাহাজটিকে সেই সমুদ্রে কেউ না কেউ দেখতে পাওয়া যায়। ১৭৯৮, ১৮৪৮, ১৮৯৮ সালে দেখা গিয়েছিল। তবে ১৯৯৮ সালের পর আর দেখতে পাওয়া যায় নি। ২০৪৮ সালে দেখা যাওয়ার চান্স আছে। আমি আশায় আছি। আপনারাও মিস করবেন না যেন। 

The Flying Dutchman

এটি এমন এক ধরনের জাহাজ যেটি পৃথিবীর সব বই, ছবি, পেইন্টিং এর মাধ্যমে সবাইকে মুগ্ধ করেছে। সব থেকে অবাক ও বিস্ময়কর ব্যপার হলো এই জাহাজটি যতোটা বই,ছবি নির্মান হয়েছে ততোটা আর কোনো জাহাজ কে নিয়ে হয় নি। এই জাহাজের ঘটনাই এমন যা সহজেই সবার মনে জায়গা করে নিতে পারে। এই জাহাজটির ঘটনা সবাইকে চমকে দেওয়ার মতো। ১৮০০ শতাব্দীর দিকে জাহাজ টি ভারত থেকে মসলা সংগ্রহ করে হল্যান্ডের দিকে যাত্রা শুরু করে ঠিম তখনই জাহাজটি এক বিশাল ঝড়ের কবলে পরে। এমতাবস্থায় তাদের ফেরত যাওয়া উচিত ছিল কিন্তু নেশাগ্রস্থ ক্যাপ্টেন এমনটা করতে নিষেধ করে। এতে নাবিকদের লিডার প্রতিবাদ করাই ক্যাপ্টেন তাকে মেরে ফেলে। আর মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্তে লিডার সেই জাহাজটিকে এক ভয়ংকর অভিশাপ দিয়ে যায়- "তুমি অনন্ত কাল এই সমুদ্রে দিশেহারা হয়ে ঘুরতে থাকবে, কোনো কূল কিনারা খুজে পাবে না"।  তারপর থেকেই এই সমুদ্রে জাহাজটি দিশেহারা হয়ে ভাসতে থাকে বলে জানা গেছে। তবে এর সত্যতা এখনও পর্যন্ত অজানা।

SS Baychimo

এটি একটি মাল পরিবহনের জাহাজ। ১৯২০ সালে হটসন বে নামের এক কোম্পানী এই জাহাজটি ব্যবহার করত। এই জাহাজটি স্কটল্যান্ড থেকে কিছু মাল কানাডার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। ঠান্ডা ঋতু সময়ের আগেই চলে আসায় পানি বরফে পরিণত হতে শুরু করে। আল-আকসার কাছে এক জায়গায় এসে জাহাজটি বরফে আটকে যায়। আর জাহাজের কর্মচারীরা আধা কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে আশ্রয় নেয়। কয়েকদিন পর কর্মচারীরা সেখানে ফেরত গিয়ে যা দেখলো তা দেখার জন্য তারা মোটেই প্রস্তুত ছিল না। সেখানে তারা জাহাজটিকে দেখতে পেল না। সেখান থেকে প্রায় ৪৫কিমি দূরে জাহাজটিকে দেখাতে পায়। জাহাজের কর্মচারীরা সেখানে গিয়ে দেখলো সেখান থেকে জাহাজটি ফেরত আনতে যতো টাকা খরচ হবে নির্মান করতে এর থেকে কম খরচ হবে। আর তাই জাহাজ থেকে মালপত্র নিয়ে আসা হয় এমনকি জাহাজটিকে ওখানেই ফেলে আসা হয়। সব চেয়ে অবাক করার মতো ব্যপার হলো তারপর থেকে জাহাজটিকে আর সেখানে  দেখা যায় নি। কয়েকদিন পরে কয়েকজন জেলে সেই জাহাজটিকে দেখতে পায় তাও আবার সেই স্থান থেকে প্রায় ২৫০ কিমি দূরে। জাহাজটি বরফে ঢাকা থাকায় জাহাজটিতে কেউ চড়তে পারে নি এমনকি কিনারায়ও আনতে পারে নি। ১৯৬২ সালে জাহাজটিকে শেষ বারের মতো দেখা গিয়েছিল তারপর থেকে আর কোথাও জাহাজটিকে ভুল করেও দেখা যায় নি। 

The Ourang Medan

১৯৪৭ সালে দুজন আমেরিকান শিপ একটি জাহাজকে উদ্ধার করতে বের হয় । তারা যে জাহাজকে উদ্ধার করতে বের হয়েছিল তার নাম ছিল The Ourang Medan. জাহাজটি থেকে শেষ যে কল করেছিল সে ছিল জাহাজের ক্রু। সে জানিয়েছিল জাহাজের সবাই মারা গিয়েছে এবং সেও কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যাবে। অনেক খোজাখুজির পর জাহাজটাকে খুজে পাওয়া যায়। বিস্ময়কর ব্যপার হলো জাহাজটা দেখার পর কেউ ভাববে না যে জাহাজটার সাথে কোনো দুর্ঘটনা হয়েছিল, জাহাজটার অবস্থা এতোটাই ভালো ছিল। তবে সব থেকে ভয়ানক ঘটনা হলো জাহাজটিতে যেসব মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে তাদের চেহারায় একটা ভয়ের ছাপ ছিল। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল তারা হয়তো চোখের ভয়ংকর কিছু একটা দেখেছে। জাহাজটিকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পূর্বেই জাহাজটির বিস্ফোরণ হয়। জাহাজটি বিস্ফরণের কারন ছিল নাইট্রোগ্লিসারিন। যা জাহাজে আগে থেকেই ছিল। তাই জাহাজের যাত্রীদের মৃত্যুর কারন এখনও সবার কাছেই অজানা। 

Mary Celeste

১৮৭২ সালে এই‌ জাহাজটি নিউইয়র্ক থেকে ইতালি সফরে বের হয়। জাহাজটির ক্যাপ্টেনের নাম ছিল Benjamin Breaks. তার সাথে তার স্ত্রী, তার ও ৮জন ক্রু মেম্বার ছিল। ঐ বছরের ডিসেম্বর মাসে এই জাহাজটি আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসতে দেখা যায়। কিন্তু আশ্চর্য্যজনক বিষয় হলো জাহাজটিতে কেই ছিল না। জাহাজটির একটি মাত্র লাইভ বোর্ড গায়েব ছিল। জাহাজে থাকা খাবার দাবারও ওই ভাবেই পরে ছিল। অনেক খোজ খবর নিয়ে জানা যায় জাহাজের ক্রু মেম্বাররা জাহাজ ছেড়ে চলে যায়। তারা বুঝতে পেরেছিল আর এক মিনিট জাহাজটিতে থাকা মানেই মৃত্যু। তাই তারা অনেক তারাহুরা করে জাহাজটি ছেড়ে চলে যায়।রহস্যজনক বিষয় হলো জাহাজটিতে এমন কি ছিল??? আর জাহাজটিতে থাকা ক্যাপ্টেন ও তার ফ্যামিলির কি হলো??? আর এতো কিছুর পরেও জাহাজটির এতো ভালো অবস্থা কি করে ছিল??? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও পর্যন্ত খুজে পাওয়া যায় নি।
Previous Post
Next Post

0 comments: