বন্ধুরা আপনাদের যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান ও দামী বস্তু কোনটি। তাহলে আপনাদের সবার আগে হীরার কথায় মাথায় আসবে। কিন্তু আজ আমরা আপনাদের যেসব জিনিস নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি তা জানলে আপনার এই চিন্তা নিমিষেই চুরমার হয়ে যাবে। আজ আপনাদের ওষুধ থেকে শুরু করে যেসব পদার্থের কথা বলব যার দাম হীরার থেকেও বেশি। যা কিনা একটা সাধারণ মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব না। এমনকি যার এক গ্রামের দাম দিয়ে আপনি গোটা একটা দেশ কিনে নিতে পারবেন। চলুন তাহলে শুরু করি-
পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান ও দামি ৫টি বস্তু -
The 5 most expensive things in the world
Plutonium
সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক সংখ্যা নিজের নামে করা প্লুটোনিয়ামের এক গ্রামের দাম ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। এটি তীব্র রেডিও একটিভ পদার্থ। নিউক্লিয়ার হাতিয়ার বানাতে এটি ব্যবহৃত হয়। এর সামান্য পরিমাণ দিয়েই আমরা পুর শহরের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারব। তবে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এখন পর্যন্ত প্লুটোনিয়াম খুব সামান্য পরিমাণে খুজে পাওয়া গেছে। যেসব স্থানে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় সেসব স্থানে প্লুটোনিয়াম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনারা যদি এটা কিনতে চান তাহলে আপনাদের মাথায় রাখতে হবে খুব সাবধানতার রাখতে হবে। কারন আপনি এটা বাসায় আনার সাথে সাথে বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দারা এসে হাজির হতে পারে আপনার বাসায়। কেননা এটা শুধু ল্যাবে রাখা যায়। এটার কাছে গেলেই মানুষের ডি এন এ পরিবর্তন হতে পারে।
Eculizumab or Soliris
এটি একটি ওষুধের নাম। যার এক গ্রামের দাম ২০ হাজার টাকা। এটিই পৃথিবীর একমাত্র দামী ওষুধ যা Soliris মার্কেটে পাওয়া যায়। এটা এতোটা দামী হওয়ার একটাই কারন সেটি হলো পৃথিবীর মারাত্মক দুটি রোগের নিরাময়ে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এর একটি হলো Paroxysmal Nocturnal Himoglobinuria এবং অপরটি হলো Atypical Hemolytic Uremic Syndrome. এসব রোগ মানুষের মস্তিষ্ককে নষ্ট করে ফেলে। তবে এসব রোগের জন্য Soliris কেও ভরসা করা হয় না। ডাক্তাররা জানান যে এসব রোগে এই ওষুধে কাজ করবে কিনা শিউর না। তবে হ্যা এসব রোগে এল ওষুধই প্রয়োগ করা হয়। আর এই রোগে চিকিৎসার জন্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার মতো খরচ হয়। যা সবার পক্ষে দেওয়া সম্ভব না।
Tefit
দেখতে অনেক সুন্দর এবং হীরার থেকে দুর্লভ এই পদার্থটি। এর এক গ্রামের মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা। আলাদা আলাদা রঙে পাওয়া এই পদার্থ পুরো পৃথিবীতে আলাদা একটা পরিচিতি বানিয়ে নিয়েছে। এটি বিশেষ করে শ্রীলংকায় পাওয়া যায়। শুধুমাত্র সৌখিন মানুষরাই এই পদার্থ কে নিজের কাছে রাখার শখ রাখতে পারে।
Tritiuam
হাইড্রোজেন বক্সে যে গ্যাস দেওয়া হয় সেটি Tritiuam দিয়ে তৈরি। এই পদার্থের মূল্য ২৫ লাখ টাকারও বেশি। পৃথিবীর কোনো ল্যাবই এটি কৃত্রিমভাবে বানাতে পারে না। এই পদার্থ প্রাকৃতিক ভাবেই মাত্র কয়েকটা স্থানে পায়া যায়। আপনি যদি এই পদার্থ বানানোর চেষ্টা করেন তাহলে এক কেজি ট্রিটিয়াম বানাতে আপনাকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হবে। এটিও একটি রেডিও এক্টিভ এলিমেন্ট। অন্য সব রেডিও এক্টিভ পদার্থ থেকে অনেক কম ক্ষতি করে। এটি রিসার্চ ও হাতিয়ার বানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। বলা হয় এটার সামান্য পরিমাণ দিয়ে টিউব লাইট বানালে সেট ২৫ বছর পর্যন্ত আলো দেবে।
Californium
এই জিনিসটা এতোটাই দামী যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। এর এক গ্রাম কিনতে আপনাকে প্রায় পুরো ৭০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে। তবে এটা মানব জাতির জন্য অনেক বিপদজনক। ১৯৫০ সালে এটি সর্বপ্রথম ল্যাবে বানানো হয়ে থাকে। এই পদার্থটি এতোটা বিপদজনক হওয়ার পরেও এটি বিজ্ঞানীরা বানায় কারন এই পদার্থ অনেক চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। জীবন নেওয়া এই পদার্থটি আবার জীবন দিয়েই থাকে।
0 comments: