Friday, May 10, 2019

পৃথিবীর ৫টি অদ্ভুত ও বিপজ্জনক রাস্তা

পৃথিবীর ৫টি অদ্ভুত ও বিপজ্জনক রাস্তা

পৃথিবীর যে কোনো অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সড়ক পথ। পৃথিবীতে জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এ রাস্তাঘাট। কিছু কিছু রাস্তা মানুষের মনকে মুগ্ধ করেছে সাথে শিহরিতও করেছে। এসব অদ্ভুত রাস্তা গুলি মানুষের মন কেড়েছে ঠিকই। আবার মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাদ। আজ আমরা আপনাদের সাথে এমন সব রাস্তা নিয়ে আলোচনা করব যা আপনাদের সত্যিই বিস্মিত করবে। আর অনেকটা অবাকও হবেন।যা একেবারেই অবিশ্বাস্যকর। কি জানতে আগ্রহ হচ্ছে সেই অবিশ্বাস্যকর,অদ্ভুত এবং ভয়ংকর রাস্তাগুলি সম্পর্কে?? যা দেখতে সাধারন রাস্তার মতো নয় এবং ভয়ংকরও বটে। আচ্ছা আর লেট না করে শুরু করা যাক -

Five strange and dangerous roads in the world
পৃথিবীর ৫টি অদ্ভুত ও বিপজ্জনক রাস্তা

ডেথ স্ট্রিট

নাম শুনেই কেমন অবাক লাগছে তাই না। মনে হচ্ছে এও সম্ভব। আমি বলব অসম্ভব কিছু ও না। বলিভিয়ার রাজধানী লাপাজ থেকে করোইকো তে এই অদ্ভুত রাস্তাটির অবস্থান। ৬৯ কি.মি. দীর্ঘ রাস্তাটি স্থানীয়ভাবে ডেথ স্ট্রিট নামে পরিচিত। কারণ প্রতি বছর এই রাস্তায় গড়ে ২০০-৩০০ জন লোক প্রাণ হারায়। এই রাস্তাটি ঘন পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে নির্মিত। এই রাস্তাটি শুরু হয়েছে ১৫,৪০০ ফুট উচ্চতা থেকে এবং একটি গভীর খালের পাশে গিয়ে মিশেছে। যার পুরোটাই ভয়ংকর। এ রাস্তা দিয়ে চলতে মানুষ সাহস খুব কম পায়। এই রাস্তা দিয়ে চলার সময় যেন মনে হয় মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

Blue স্ট্রীট

রাস্তার নামই বলে দিচ্ছে রাস্তাটা ঠিক কতটা সুন্দর। হ্যা বন্ধুরা এক অপূর্ব সুন্দর এবং মন কাড়ানো এই রাস্তাটি সবার মনে জায়গা নেওয়ার মতো। আটলান্টিক সাগর পাড়ে অবস্থিত আফ্রিকার ছোট্ট সুন্দর দেশ মরক্কো। মরক্কোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শেফশাওয়ান নামক এক জাদুময় শহর। এটি Blue Pearl of Morocco বা  Blue City নামেও পরিচিত। আসলে এই শহরটির নামের মধ্যেই এর বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে রয়েছে কারণ এই শহরটি পুরোপুরি নীল রঙে আচ্ছাদিত। শহরটির ঘরবাড়ির দেয়াল,দরজা আর রাস্তাঘাট সবই নীল রঙের যা এই শহরে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে। এই নীল রঙই শহরের মানুষের মন কেড়েছে। এই নীলের রহস্য খুঁজতে গিয়ে জানা যায় যে, একবার স্পেন থেকে পালিয়ে আসে ইহুদিরা এবং এই শহরে বাস করতে শুরু করে। আর তারাই শহরটি কে নীল রঙে রাঙিয়েছে। যা সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে।

পিংক স্ট্রীট

নাম শুনেই হাসছেন? ভাবছেন পাগল হয়ে গেলো নাকি। কি সব ভুল ভাল বলছে। আমি ভুল কিছুই বলছি না। সমুদ্র তীরবর্তী লিসবন শহরের পিংক স্ট্রীট নামক এলাকার রাস্তা আর অলিগলি সব ঝলমলে গোলাপি রঙের। এছাড়াও এর দুপাশের ফুটপাতে রয়েছে খোলামেলা আর্ট গ্যালারি। সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় এখানে অসংখ্য লোকের সমাগম ঘটে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য লোকের উপস্থিতি থাকে এখানে। এছাড়াও এখানে রয়েছে অসংখ্য নাইট ক্লাব ও বার। যার ফলে সেখানকার লোকেদের নৈশ জীবনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে পিংক স্ট্রীট। দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস একে ইউরোপের সবচেয়ে পছন্দনীয় ১২টি রাস্তার মাঝে স্থান দিয়েছে।

আটলান্টিক ওশেন রোড

এখন এমন একটি রাস্তার কথা বলব যার দৈর্ঘ্য এতোই ছোট যা আপনারা কখনও কল্পনাতেও আনতে পারবেন না। নরওয়ে এই ৯ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এই রাস্তাটির অবস্থান। এর একটি মজার বিষয় হচ্ছে যে এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের রাস্তাটিতে সেতু রয়েছে ৮ টি। যা একবারেই আশ্চর্যজনক। এই রাস্তার অনেক কাছ দিয়েই সমুদ্র। সমুদ্রের পানি ছুঁয়ে চলে যাওয়া এই রাস্তাটি যে কাউকেই মুগ্ধ করে। চমৎকার সুন্দর এই রাস্তাটি মাঝে মাঝে বিপজ্জনকও হয়ে উঠতে পারে। এই রাস্তাটি যেমন মানুষকে তার সৌন্দর্য্য  দিয়ে আকর্ষিত করে। ঠিক তেমনি মৃত্যুর মুখেও ঠেলে দেয়। কারণ প্রায়ই পূর্বাভাস ছাড়াই তুষার ঝরের কবলে পরতে হয় এই পথে চলাচলকারীদের। তারা কিছু বুঝে উঠার আগেই মৃত্যু তাদের সামনে এসে হাজির। সত্যিই ভাবতে অবাক লাগে সৌন্দর্য্যই কখনও কখনও মৃত্যুর কারন হয়ে দাড়ায়।

ম্যাজিক কার্পেট স্ট্রিট

রাস্তার নাম শুনে কেউ কেউ এমনও  ভাবতে পারেন যেন এখানে রাস্তা জুড়ে রেশমি–পশমি কার্পেট বিছানো থাকে। তেমনটা কিছুই না। তবে একবারে ভুল কিছুও ভাবেন নি। এই পথে বিছানো কার্পেট আসলে সম্পূর্ণ বালির তৈরি যা স্যান্ড আর্ট নামে পরিচিত। ক্যানারি দ্বীপের লা ওরোটাবা শহরে অবস্থিত ম্যাজিক কার্পেট স্ট্রীট বিশ্বের সবচেয়ে স্টাইলিশ রাস্তা গুলোর মধ্যে একটি। Guineas book এ ২০০৭ সালে এই রাস্তাটি বিশ্বের সর্ব বৃহৎ স্যান্ড পেইন্টিং এর খেতাব জিতে নেয়। চমৎকার সুন্দর রাস্তা আর তার দু পাশে কাঠের ব্যালকনি দেয়া সতেরো ও আঠেরো শতকের তৈরি বাড়ি গুলো সত্যিই সকলকে মুগ্ধ করে। এ যেন পৃথিবীর এক অপরুপ সৃষ্টি।
Previous Post
Next Post

0 comments: