Friday, May 24, 2019

বিজ্ঞানের কাছেও অজানা এমন ৫টি রহস্য

সৃষ্টিকর্তার অপরিসীম  রহস্যময় সৃষ্টির কতটুকুই বা জানে বিজ্ঞান? পৃথিবীতে এমন অনেক প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর বিজ্ঞান আজও দিতে পারে নি। কিছু প্রশ্ন নিয়ে আজও চলছে গবেষণা। আবার কিছু বিজ্ঞানীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে এসব প্রশ্নের থেকে। তো বন্ধুরা আজ আপনাদের এমন কিছু বিষয় নিয়ে বলব যার উত্তর বিজ্ঞান খুজতে খুজতে হয়রান। চলুন শুরু করি - 

বিজ্ঞানের কাছেও অজানা এমন ৫টি রহস্য


Placebo Effect

বন্ধুরা ব্রেইনকে বুঝতে পারা একদমই সহজ কাজ নয়। placebo effect এর একটি জলন্ত উদাহরণ। আমরা জানি অনেক বিজ্ঞানীরা মানুষের বিভিন্ন অসুখ নিরাময়ের জন্য জীবনের অর্ধেকটা সময় ব্যয় করে দেয়। আর এজন্য বর্তমান সময় অনেক অসুখ নিরাময়ের চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। আচ্ছা আমি যদি আপনাদের বলি আমাদের জটিল ও জটিলতম অসুখ হওয়ার পরেও যদি মন থেকে জাস্ট এটা বলি যে আমি সুস্থ তাতেই আমাদের অসুখের কিছুটা প্রভাব কমে যাবে। তা কি আপনাদের বিশ্বাস হবে? হ্যা ঠিক এটাকেই বলে placebo effect. আমাদের ব্রেইনের এ অসাধারন ক্ষমতাকে বোঝার জন্য অনেক বিজ্ঞানীরাই নানা রকম রিসার্চ করে গেছেন। এক গবেষণায় অসুস্থ কিছু রোগীদের মিছেই কিছু ওষুধ দেওয়া হয় আর বলা হয় ওষুধ গুলো খেয়ে আপনারা সুস্থ হয়ে যাবেন। এতেই কাজ হয়ে যায়। রোগীরা সেটাই বিশ্বাস করে আর ওষুধ গুলো খেয়ে নেয় এবং কিছু দিন পরেই সুস্থ হতে শুরু করে। আর ব্রেইনও ভাবতে শুরু করে সে সুস্ হতে যাচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো তাদের শরীরের অর্গানগুলো অস্বাভাবিক ভাবে ড্যামেজ কোষগুলো রিপেয়ার করতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা তো এ প্রক্রিয়া দেখে পুরোই হতবাক। এ কি করে সম্ভব। বিজ্ঞানীরা এর নাম Placebo Effect দিয়েছে ঠিকই কিন্তু কেন এমন হয় তার উত্তর আজ পর্যন্ত দিতে পারে নি। 

Never Ending Lighting Storm

পশ্চিম ভেনিজুয়ালার কাটাটুম নদীতে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার সময় প্রচুর পরিমাণে বজ্রপাত হয়। ভারী ভারী বজ্রপাত ক্রমান্বয়ে নদীর পানিতে আছড়ে পরে। আপনি এটা শুনে অবাক হবেন এটি ঘটে থাকে প্রত্যেক দিন পুরো ১০ ঘন্টা জুরে। গত বছর ৩৬৫ দিনের ভেতরে ২৬০ দিনই এই বজ্রপাত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত রিসার্চ করেও জানতে পারে নি এই ঘটনা কেন হচ্ছে তাও আবার একই সময়ে। তবে অনেক বিজ্ঞানীদের ধারনা পানির নিচে থাকা ইউরেনিয়ামের কারনে এমনটা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বের বেশির ভাগ বিজ্ঞানীরাই এই মতবাদের বিরুদ্ধে যুক্তি প্রদান করেন। তবে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যে থিউরিটি বিশ্বাস করা হয় তা হল এই নদীর পাশে থাকা পাহাড়ের অবস্থানের কারনে মৌসুমি হাওয়ায় খুব বেশি এই পানিতে প্রভাবিত হয়। আর তাতে করে নদীর পানির সাথে মিথেন গ্যাস বাষ্প হয়ে উপরে উঠে আসে। যার ফলে এমন বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এসব থিউরি কোনো কাজেই আসে না। কেননা সবার মনে প্রশ্ন জাগে এসব যদি ওই মিথেন গ্যাসের কারনেই হয়ে থাকে। তবে তা সন্ধ্যা ৭টার দিকেই কেন হবে। এই গভীর ধাধার আড়ালে বিজ্ঞানীরা প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছে।

Solar Glory

নর্দান জার্মানির সবচেয়ে উচু পয়েন্টে তৈরি করা হয়েছে পৃথিবীর প্রথম ট্রান্সমিটার। কিন্তু এখানে আমি আপনাদের ট্রান্সমিটার নিয়ে কিছু বলছি না। তবে যেখানে ট্রান্সমিটার বানানো হয়েছে সেখানে আলাদা আলাদা কিছু পাথর রয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় হল যারা এই পাহাড়ে ভ্রমন করতে আসে তারাই একটা দৃশ্য উপভোগ করতে পারে। তার থেকে অবাক করা বিষয় হল কেউ ওই পাথরের কাছে গেলে তার ছায়া রংধনুর রংয়ের মধ্যে দেখা যায়। তবে সেই কিভাবে এবং কোথা থেকে তৈরি হয়েছে তা কেউ বের করতে পারে নি। বিজ্ঞানিরা তো পুরোই থ। তারা ভেবেই পাচ্ছে ওই রংধনু আসলে কিসের তৈরি।

The Double Tree Of Casorzo

এই গাছটি খুজে পাওয়া গিয়েছিল ইতালিতে। প্রথম দেখাতেই সাধারন জেরি গাছ মনে হবে। তবে আপনি যদি এই গাছটির নিচের দিকে তাকান তাহলেই বুঝতে পারবেন এই গাছটি কেন এতো অসাধারন। উপর থেকে দেখলে এই গাছটিকে জেরি গাছ মনে হলেও নিচের থেকে দেখলে একে তুত বা অন্য গাছের মতো মনে হবে। আমার মনে হয় না পৃথিবীর অন্য কোনো গাছে এমনটা দেখা যায়। তবে এই ধরনের গাছের আয়ুস্কাল অনেক কম হয়ে থাকে। গাছটির এমন আকারের কারন কেউ বলতে পারে নি। এমনকি বিজ্ঞানীরাও এর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারে নি। তবে স্থানীরা বিশ্বাস করে কোনো আাখি হয়তো তুত গাছের উপর কোনো জেরি গাছের বিচ ফেলে রেখে গেছে। আর সেই থেকে গাছটির এমন আকৃতি। কিন্তু এই কথাটি মোটেই যুক্তিসংগত নয়।

Pyramid Technology

লেট হুইল আডার্লেড স্কার্লি কে তার হবু স্ত্রী বিয়ে দিন না করে দেয়। তারপর তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিল যাতে তার হবু স্ত্রী পরে আফশোস করে। এমনটা ভাবতেই সে আমেরিকায় চলে আসে। আর সেখানে গিয়ে সে যা করেছে তা এখনও সবার কাছে রহস্য। সে চুনা পাথর দিয়ে পুরো একটি কেল্লা নির্মান করে ফেলে। বর্তমান সময়ে যদি আমরা এমন কেল্লা নির্মান করতে চাই তাহলে বড় বড় ক্রেনের সাহায্য নিতে হবে। ক্রেন পাথর গুলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায়। কিন্তু সেই লোকটি একাই এই কাজটি করেছিলেন। অবাক করার বিষয় হলো তার কাজ এতোটাই সূক্ষ্ম ছিল যে সেই কেল্লার পাথরটি তার জায়গা থেকে একটুও সরে নি। সবার মনে একটাই প্রশ্ন ছিল যে হাজার টন পাথর কি করে সে একাই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরালো। কিন্তু স্কার্লি তার গোপন কথা কাউকে বলেনি। তাই সবার কাছে এই প্রশ্নটা প্রশ্নই‌ রয়ে গেছে।
Previous Post
Next Post

0 comments: